ইরানে ‘মক্কা চুক্তি’ জোটের বৈঠক, নীরব যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের রাজধানী তেহরানে আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা চুক্তি’ জোটের প্রতিনিধিদের বৈঠক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখনও সরাসরি কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই মূল ক্ষমতার চাবিকাঠি নিয়ন্ত্রণ করছেন।

আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, তেহরানের বৈঠকের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সরাসরি প্রতিক্রিয়া নেই। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পই সেখানকার সার্বিক পরিস্থিতি ও ক্ষমতার সব কার্ড নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য যা সবচেয়ে উপযুক্ত ও সেরা, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠিক সেই সিদ্ধান্তই নেবেন।

ওয়াশিংটন দাবি করছে, তেহরানের ওপর তাদের চাপ সৃষ্টি করার কৌশল অব্যাহতভাবে কাজ করছে। যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া কড়া নিষেধাজ্ঞা এবং পারস্য উপসাগরে বজায় রাখা নৌ-অবরোধ ইরানি অর্থনীতিকে তছনছ করে দিয়েছে।

একইসঙ্গে মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরির’ কথা উল্লেখ করে হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা জানান, আমেরিকান সামরিক পদক্ষেপের কারণে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়ে গেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ইরানি সেনাবাহিনী কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। নৌবাহিনীর অধিকাংশ যুদ্ধজাহাজ সাগরের তলদেশে ঠাঁই নিয়েছে এবং তাদের বিমানবাহিনী ও বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই চরম চাপ ও অবরোধের কৌশল সামনেও অব্যাহত থাকবে। ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধ কখন ও কীভাবে শেষ হবে— সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পই গ্রহণ করবেন এবং খুব শিগগিরই এই যুদ্ধ শেষ হতে যাচ্ছে।

আরো