স্বাধীনতার পর বন্ধ করে দেয়া ওয়াজ মাহফিল পূর্ণ:প্রচলনকারী হযরত মাওঃ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্
বাংলাদেশ ফোরিকানিয়া-হাফেজিয়া মাদরাসা শিক্ষক সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আজিমপুর গোরস্তান শাহী, মসজিদের সুদীর্ঘ পঞ্চাশ বছরের খতিব, মাদরাসা ফয়জুল উলুম আজিমপুরের প্রতিষ্ঠাতা, বহুগ্রন্থ প্রণেতা ও প্রখ্যাত আলেম, সকলের অত্যন্ত শ্রদ্ধাভাজন হযরতুল আল্লাম মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্ রহ: (১৯১৫-ওফাত ২০০৩ সালের ৩০শে জানুয়ারী)। তিনি সারাদেশে মসজিদ, মাদরাসা ও দাতব্য প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা, দেশব্যাপী ওয়াজ মাহফিল ও এসলাহি বয়ানের মাধ্যমে মানুষের নৈতিক ও মানবিক অবস্থার উন্নয়নে সচেষ্ট ছিলেন। সম্প্রতি জামেয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার সাবেক শিক্ষা সমাপণকারীদের মুখপত্র ‘মাসিক রাবেতা’য় তাঁর সম্পর্কে চমকপ্রদ একটি তথ্য অত্র মাদরাসার মুহতামিম ও প্রখ্যাত আলেমে দ্বীন মুফতী মনসুরুল হকের বয়ানে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি লিখেছেন-
“কোন একভাবে তাঁর (ইঞ্জিনিয়ার হামিদুর রহমান) সঙ্গে আজিমপুর গোরস্তান সংলগ্ন মাদরাসার (ফয়জুল উলুম আজিমপুর) প্রতিষ্ঠাতা ও মুহতামিম হযরত মাওলানা আবদুল্লাহ্ রহ. এর সঙ্গে পরিচয় ও মহব্বত হয়ে যায়। এই আবদুল্লাহ্ ছাহেব রহ. ছিলেন আমাদের উস্তাদ শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. এর হামসবক (সহপাঠি) তাঁরা উভয়ে একই সঙ্গে হযরত শাব্বির আহমেদ উসমানী রহ. এর নিকট হিন্দুস্তানের ডাভেল মাদরাসায় বুখারী শরীফ পড়েছেন। আবদুল্লাহ্ ছাহেব রহ. ছিলেন বড় হিম্মতওয়ালা মানুষ। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বেশ কিছুদিন জলসা-মাহফিল (প্রকাশ্যে) বন্ধ ছিল। এসময় আবদুল্লাহ্ ছাহেবই সর্বপ্রথম সাহস করে ঢাকায় (ওয়াজ) মাহফিলের আয়োজন করেন। পরে তাঁর দেখাদেখি অন্যরাও সাহস পান।” [রাবেতা, পৃষ্ঠা-১৩, রজব-শাবান ১৪৪৫ সংখ্যা]
ইসলামী ঐক্য প্রক্রিয়ার প্রাণপরুষ মরহুম বড়হুজুর রহ: অত্যন্ত সমাজ ও রাজনৈতিক সচেতন ছিলেন। বাংলাদেশ ফোরকানিয়া-হাফেজিয়া মাদরাসা শিক্ষক সমিতির ১ম সম্মেলনে তিনি সভাপতির ভাষণে বলেন-“দেশ সমুদ্র সদৃশ। সমুদ্রের ঢেউ এর ন্যায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও তাহাদের পছন্দের সরকার আসিবে ও চলিয়া যাইবে কিন্তু আল্লাহর দ্বীনের প্রচার, প্রসার ও দ্বীন কায়েমের কণ্টকাকীর্ণ পথে আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম চালাইয়া যাইতে হইবে।” তাঁর রচিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে -Quoran Based Education: Need of the Day, সমাজতান্ত্রিক বিভীষিকার অন্তরালে বাংলাদেশের মুসলমান, অগ্নিপরীক্ষা, ইতিহাসের আলোকে আত্মকলহের ভয়াবহ পরিণাম, রাসূলুল্লাহ্ সা: এর মক্কা বিজয়, খাজা মুঈনুদ্দীন চিশতী রহ:, শাহাদাতুল আকওয়াম আলা সিদকিল ইসলাম অন্যতম। তিনি তাঁর লেখনীতে ইসলামকে একটি স্থবির ও প্রাচীন গতানুগতিক বা বংশ পরম্পরাহত ধর্ম হিসাবে উপস্থাপনের স্থলে একটি জীবন-দর্শন ও আন্দোলন হিসাবে পেশ করেছেন। ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার কসবা থানার অন্তর্গত দেলী মুনশী বাড়ীর কৃতি সন্তান আল্লামা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্ রহ: ছিলেন বিশ শতকের একজন খ্যাতনামা মুহাদ্দিস, শ্রেষ্ঠ ফিকহবিদ ও ইসলামের ইতিহাসে অনন্য প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন জীবনকালে এক সাহসী কলমযোদ্ধা, আদর্শ দ্বীনদার, অত্যন্ত আল্লাহ্ ভীরু ও একজন সফল আলোকিত মানুষ। শিক্ষার সম্প্রসারণ, সমাজসেবা ও জনকল্যাণকে তিনি জীবনের ব্রত হিসাবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর অসমাপ্ত কর্ম সম্পাদনের লক্ষ্যে “বড়হুজুর আল্লামা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি” গঠণ করা হয়েছে।
তাঁর জীবনের সকল নেক আমলগুলোর উত্তম জাযা (পুরষ্কার) আল্লাহ্ দান করুন।
