মুমিনকে অবশ্যই লেনদেন ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সৎ ও স্বচ্ছ থাকতে হবে

একজন মুমিনের সত্যবাদিতার পরিচয় হচ্ছে তার লেনদেন। একবার এক ব্যক্তি উমর (রা)-এর কাছে একজনের প্রশংসা করে বলল, ‘ওই ব্যক্তি খুব সত্যবাদী।’ তখন উমর (রা.) বললেন, ‘আচ্ছা তুমি কী তার সঙ্গে সফর করেছ? লোকটি জবাবে না বলল। উমর (রা.) আবার বললেন, তুমি কী তার সঙ্গে কোনো লেনদেন করেছ? এবারও লোকটি বলল, না। এরপর উমর (রা.) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কী তার কাছে কোনো আমানত রেখেছ? সে এবারও বলল, না।’ তখন উমর (রা.) বললেন, ‘তাহলে ওই লোকটির ব্যাপারে তোমার কোনো ধারণা নেই। মনে হয়, তুমি তাকে মসজিদে রুকু-সিজদা করতে দেখেছ অর্থাৎ শুধু মসজিদের গণ্ডিতে দেখেই যে তাকে ধার্মিক ও সত্যবাদী মনে করেছ এবং তার গুণের প্রশংসা করেছ, এটা ঠিক নয়। প্রকৃত পরিচয় তো জানবে লেনদেনের পর।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস : ২৫৫৭০)
মহানবী (সা.) ঋণ পরিশোধের বিষয়ে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন:
(১) ‘স্বচ্ছল ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে টালবাহানা বা গড়িমসি করা অন্যায় বা জুলুম।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪০০)
(২) ‘যে সচ্ছল ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করে, তাকে অপমান ও শাস্তি উভয়টিই দেওয়া আমার কাছে হালাল।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৬২৮)

(৩) কোনো ব্যক্তি তার হাত দিয়ে যা গ্রহণ করেছে, তা পরিশোধ না করা পর্যন্ত সে দায়ী থাকবে।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১২৬৬)
(৪)’ঋণগ্রস্ত ব্যক্তির আত্মা লটকে থাকে, যতক্ষণ না তার পক্ষ থেকে কেউ সেই ঋণ পরিশোধ করে দেয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২৪১৩)

(৫) শহীদের বেলায়ও ঋণের ব্যাপারে কোনো মাফ নেই। যেখানে বলা হয়েছে শহীদের সব গুনাহ মাফ করা হবে এবং তারা বিনা বিচারে জান্নাত লাভ করবেন। তার পরও শুধু ঋণের বিষয়টির মাফ নেই। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘ঋণ পরিশোধের পাপ ছাড়া শহীদদের সব পাপ মাফ করে দেওয়া হবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯১২)

অথচ আজ আমরা আর্থিক লেনদেনে কত উদাসীন। নিতান্ত প্রয়োজন না হলে ঋণ গ্রহণ না করাই উত্তম। ঋণের বোঝা সামাজিক মর্যাদাহানিকর।

আর্থিক লেনদেনে অসঙ্গতি থাকায় ‘কর্জে হাসানা’র মত একটি উত্তম সিস্টেম আজ সমাজ থেকে উচ্ছেদ হতে চলেছে। আল্লাহ্ সবাইকে ঋণমুক্ত জীবন ও ঋণ পরিশোধের তৌফিক দান করুন। আমিন!

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
সেক্রেটারী জেনারেল
আল্লামা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।

আরো