জমি দখল-হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলা, ভাঙচুর ও নারী আহত করার ঘটনার প্রতিবাদে এবং উল্টো হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬) বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে মো. ইয়াছিন মল্লিক।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, উপজেলার ধনপোতা (বেতাগা) গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ মল্লিকের পরিবার তাদের বৈধ আর এস (৪০৭) খতিয়ানভুক্ত ও হেবা দলিল মূলে প্রাপ্ত জমিতে দীর্ঘবছর ধরে শান্তিপূর্বক ভোগদখল করে আসছেন। কিন্তু গত কিছুদিন ধরে স্থানীয় মৃত আনছার আলী শেখের ছেলে মিরাজুল ইসলাম বাবু ও রবিউল ইসলাম শেখসহ প্রতিপক্ষের লোকজন অন্যায়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে ওই জমি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো আইন বা সামাজিক নিয়মীতির তোয়াক্কা করেনি।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩শে অক্টোবর শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১২টা ৪৫ মিনিটে বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আকস্মিকভাবে বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় বাড়ির নারীরা বাধা দিলে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরে থাকা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালপত্র লুটপাট করা হয়। এই বর্বরোচিত হামলায় মানসুরা বেগম (৪৮), আঞ্জুমা বেগম (৫০), নসিমা বেগমসহ পরিবারের ৪ জন নারী সদস্য গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয় এবং অবস্থার অবনতি হলে দুইজনকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, এই নৃশংস হামলার ঘটনায় আইনি সহায়তার প্রস্তুতি নিলেই প্রতিপক্ষ নিজেদের অপরাধ ঢাকতে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের বিরুদ্ধে থানায় একটি বানোয়াট ও কাল্পনিক মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এমনকি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না এমন ব্যক্তিদেরও ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে। এই মিথ্যা মামলার কারণে বর্তমানে পুরো পরিবার চরম হয়রানি ও গ্রেপ্তার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে এবং প্রতিপক্ষের লোকজন প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
