কক্সবাজারে দেশের প্রথম নিরাপদ ও টেকসই বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলার ‘ই-টমটম’ এর শুভ উদ্বোধন

দেশের প্রথম নিরাপদ ও টেকসই বৈদ্যুতিক থ্রি হুইলার ‘ই-টমটম’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে কক্সবাজারে। এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে বেশ কয়েকটি মডেলের যানবাহন যা পরিবেশবান্ধব লিথিয়াম আয়ন ফসফেট ব্যাটারি ব্যবহার করে, যার মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে ই-টমটম। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক পরিবহন সেবা প্রদানই এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য।
ই-টমটমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জয়নাল আবেদীন বলেন, “দেশে বর্তমানে ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ ইলেকট্রিক থ্রি হুইলার রয়েছে, যেগুলো এসিড ব্যাটারিতে চলে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ই-টমটম এই ঝুঁকি কমাতে এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ই-টমটম শুধু পর্যটকদের জন্য নিরাপদ পরিবহনই নয়, বরং এটি পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। লিথিয়াম আয়ন ফসফেট ব্যাটারি ব্যবহারের মাধ্যমে এই যানবাহনটি দীর্ঘস্থায়ী ও কম রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিশ্চিত করেছে। সেই সাথে পর্যটকদের জন্য আরামদায়ক ন্যায্য ভাড়া তালিকা অনুযায়ী ভাড়া গ্রহণ করা হবে। চাইলে পর্যটকগণ অগ্রিম বুকিং করে রাখতে পারবে। চালকদের থাকবে যথাযথ প্রশিক্ষণ। নির্ধারিত পোশাক। নারী যাত্রীদের জন্য যদি চায় সেক্ষেত্রে নারী চালক আগামীতে রাখার লক্ষ্য রয়েছে।
দেশে প্রচলিত বৈদ্যুতিক গাড়িগুলোর বা ব্যবস্থাপনা এবং নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণে সরকার নানা সময়ে বিপাকে পড়ছে ,একদিকে তাদের আন্দোলন অন্যদিকে পরিবেশের ক্ষতি, বৈদ্যুতিক ক্ষতি, যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি, দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
দীর্ঘদিন যাবত এই সেক্টরে কাজ করতে গিয়ে সব কিছুর সমাধান করার লক্ষ্য নিয়ে ই-টমটমের প্রতিষ্ঠাতা একটি নির্ধারিত “ইভি টার্মিনাল” ব্যবসায়িক মডেল প্রণয়ন করেছে। যার মাধ্যমে ব্যবসায়ী, পরিবহন মালিক, যাত্রীদের নিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক খাত, সড়কের নিয়ম অনুসরণ করে গঠনমূলক নিয়ন্ত্রণ করবে ই-টমটম।
কক্সবাজারের পর্যটন সেক্টরে ই-টমটমের প্রবর্তন পর্যটকদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তাছাড়া স্থানীয়রা চাইলেই হতে পারবে ই টমটমের ব্যবসায়িক অংশীদার। যা ই-টার্মিনাল নামে পরিচালিত হয়। যেখানে প্রতিটি গাড়ি জিপিএস ট্রাকিং এর মাধ্যমে নিরাপত্তা প্রদান সহ ১০ বছরের গাড়ির ওয়ারেন্টি প্রদান করা হয়। প্রচলিত গাড়িগুলোর অবস্থা অত্যন্ত জুঁকিপূর্ণ এবং দুই তিন বছর পর নষ্ট হয়ে যায়। ই-টমটমের গাড়িগুলো টিকবে ১০ বছর থেকে ১২ বছর। তাছাড়া এসিড ব্যাটারি ব্যবহার না করার কারণে গাড়ির ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা একদমই নেই।। থাকছে চালক ও যাত্রীদের সুরক্ষা ব্যবস্থা। পরিবারসহ ভ্রমণকারীরা এখন আরও নিরাপদে ও আরামদায়কভাবে তাদের ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।
এই উদ্যোগটি দেশের পরিবহন খাতে একটি মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য অঞ্চলেও এই প্রযুক্তি ১০০ টি ইভি টার্মিনাল করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে ই-টমটম।

আরো