নোটিশ ছাড়াই ইবনে সিনা ফার্মার আড়াইশ’ কর্মীকে চাকরিচ্যুতির অভিযোগ
ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালের অন্তত আড়াইশ কর্মীকে আকস্মিকভাবে ছাটাইয়ের অভিযোগ উঠেছে। এরা সকলে সারাদেশে প্রতিষ্ঠানটির বিক্রয় ও বিপণন বিভাগে কর্মরত ছিলেন। হঠাৎ করে চাকরি হারিয়ে এই কর্মীরা পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। চাকরি ফিরে পেতে তারা ঢাকার আসাদগেট প্রধান কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচী পালন করেন। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে তারা একাধিকবার আন্দোলন স্থগিত করলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। ফলে চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে এবার তারা আমরণ অনশনের ডাক দিয়েছেন।
গত ৪ মে ইবনে সিনার প্রধান কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অনশনরত কর্মীদের সঙ্গে কথা হয়।
নিরাপত্তার স্বার্থে পরিচয় গোপন রেখে একাধিক আন্দোলনকারী জানান, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির এমডি হিসেবে থাকা সদরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক। ভিন্ন সেক্টরের লোক হয়ে তিনি কিভাবে একটা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করবেন। এছাড়া পরিচালক (মার্কেটিং) এর দায়িত্বে আছেন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. শাহ মোহাম্মদ বুলবুল। একজন চিকিৎকের পক্ষে মার্কেটিং সেক্টর চালানো অসম্ভব বলে দাবি করেন তারা।
চাকরিচ্যুত করার প্রসঙ্গে আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রতিটি ওষুধ কোম্পানিরই মার্কেটে কিছু টাকা বকেয়া থাকে সারা বছর। পাশাপাশি অনেক টাকা অনাদায়ী হয়। সেগুলো সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ থেকে আঞ্চলিক পর্যায়ের কর্মকর্তারা ম্যানেজ করে থাকেন। বহু বছর ধরে এভাবেই চলে আসছে। কিন্তু ইবনে সিনার উচ্চ পদের কর্মকর্তাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বকেয়া টাকার হিসেব নিয়ে গড়মিল বেধে যায়। বিশেষ করে ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে এসব হিসেব কষতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। এরপর যখন যাকে সন্দেহ হয়েছে, কোনো প্রকার যাচাই বাছাই ছাড়াই তাদেরকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। এমনকি বকেয়া টাকার জন্য ঘরবন্দি করে, অফিসে ডেকে আটকে রাখাসহ নানাভাবে নির্যাতনের ঘটনাও ঘটেছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালের পরিচালক (মার্কেটিং) শাহ মোহাম্মদ বুলবুল বলেন, তাদের অভিযোগ সত্য নয়। অন্যায়ভাবে কাউকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ সাপেক্ষে তাদেরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।