বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতির সনদ জাল, আবার মাদক মামলার আসামি

শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইলিয়াস উদ্দিন আহাম্মদ বলেন, ‘একজন স্কুল সভাপতির বিরুদ্ধে জাল সনদ দাখিলের বিষয়টি নিয়ে আমরা বিব্রত। অভিযোগ পেয়েছি তিনি রাজনৈতিক ক্ষমতা দেখিয়ে, সভাপতির পদটি ভাগিয়ে নিতে জাল সনদের আশ্রয় নিয়েছেন। তাই জাল সনদসহ যাবতীয় বিষয় যাচাই-বাছাই করতে দুই সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। তাদেরকে সম্ভব হলে আগামী বুধবারের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
তিনি জানান, জাল সনদের পাশাপাশি নানা মামলার আসামি হওয়ার পরও তিনি কিভাবে সভাপতি মনোনীত হয়েছেন সেসব বিষয় তদারকি করা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কারও গাফিলতি, অবহেলা আছে কিনা সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামে জাল সনদ দিয়ে মাদক মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি ছাত্রদল নেতা মোহাম্মদ আলীকে বিদ্যালয়ের সভাপতি নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। গত ২৪ মার্চ বোর্ডের সাবেক বিদ্যালয় পরিদর্শকের সই করা এক চিঠিতে অ্যাডহক কমিটি গঠন করার বিষয়টি জানানো হয়। এজন্য বোর্ডে বেশকিছু ডকুমেন্ট জমা দেন মোহাম্মদ আলী। সেখানে দেখা যায়, তিনি মাদরাসা বোর্ড থেকে ১৯৯৭ সালে সেকেন্ড ডিভিশনে দাখিল ও ১৯৯৯ সালে থার্ড ডিভিশনে আলিম পাস করেন। তিনি ২০০৩ সালে চট্টগ্রামের সাউদার্ন ইউনিভার্সিটির ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকে উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে একটি সনদ জমা দেন। অথচ সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষ জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে ইসলামিক হিস্ট্রি অ্যান্ড কালচার নামে কোনো বিভাগই ছিল না। ২০১০ সালে ইসলামিক স্টাডিজ নামে কেবল একটি বিভাগ চালু করা হয়। জাল সনদের বিষয়টি জানার পর নড়েচড়ে বসে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এদিকে ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী নিজেকে দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দেন। শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, জাল সনদটি বাদ দিলে এখন মোহাম্মদ আলীর শিক্ষাগত যোগ্যতা দাঁড়ায় আলিম পাস। যা দিয়ে তিনি কোনোভাবেই সভাপতি হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ২৮ অক্টোবর বোয়ালখালীতে এক হাজার লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। তদন্ত শেষে এসআই রহমত উল্লাহ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করলে ২০২২ সালের ২২ জুলাই মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তিনি জামিনে কারাগার থেকে বের হয়ে আসেন। বর্তমানে মাদক মামলাটি বিচারাধীন।

আরো