আট বিভাগে আট দিনে ভোট হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব

দেশের আটটি বিভাগে এক দিন করে মোট আট দিনে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হলে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট উপহার দেওয়া সম্ভব—এমন মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ।

তাদের মতে, অতীতে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সরকারের অধীনে। সে সময় প্রশাসনকে নিজেদের ইচ্ছামতো ব্যবহার করে নির্বাচনের ফল নিজেদের পক্ষে নেওয়ার অভিযোগ ছিল ব্যাপক। প্রশাসনিক প্রভাব, ভোটকেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট ও রাতের ভোটের অভিযোগ নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করে।

২০২৪ সালের জুলাই–আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় রয়েছে এবং ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। যদিও এবার আওয়ামী লীগ নির্বাচন মাঠে নেই, তবে একটি বড় রাজনৈতিক দল সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতায় যেতে প্রশাসনকে প্রভাবিত করার প্রবণতা যেকোনো বড় দলের মধ্যেই দেখা যেতে পারে, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—সরকার কীভাবে সত্যিকার অর্থে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে? প্রশাসনের বাস্তব সক্ষমতা নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা।

অনেকের মতে, এর একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে ধাপে ধাপে নির্বাচন আয়োজন। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের আটটি বিভাগে আলাদা দিনে ভোটগ্রহণ করা হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—সেনাবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, আনসারসহ প্রশাসনের সব ইউনিট একটি বিভাগে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবে। এতে করে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অনিয়ম রোধ এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ অনেক বেশি সহজ হবে।

বিশ্লেষকদের দাবি, বর্তমান সরকার যদি সত্যিই জনগণকে একটি গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে চায়, তবে আট বিভাগে আট দিনে নির্বাচন আয়োজন একটি বাস্তবসম্মত ও কার্যকর পথ হতে পারে। অন্যথায় ব্যালট বাক্স ছিনতাই, জাল ভোট ও রাতের ভোটের মতো অভিযোগ পুরোপুরি প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তারা মনে করেন।

আরো