রাজউকের অনুমোদন ছাড়াই চলছে নির্মাণ কাজ বন্ধের চিঠি দিলেও হয়নি বন্ধ এলাকাবাসীর অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর অভিজাত আবাসিক এলাকা ধানমন্ডি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ধানমন্ডি ২ নং রোডের পুরাতন ১৯২ (নতুন-১৪) নং প্লটে রাজউকের নকশাবিহীন, বিধি বহির্ভূতভাবে বহুতল মার্কেট নির্মাণ কাজ করছে। সম্প্রতি সেখানে মালিকানা বা ব্যবহার সংক্রান্ত পরিষ্কার কোনো তথ্য ছাড়াই নির্মাণ কাজ দেখা গেছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) বিগত ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ইং তারিখে অনুমোদনহীন নকশা বহির্ভূত নির্মাণ কার্য না করার জন্য নির্দেশমূলক পত্র প্রেরণ করলেও মেসার্স এ্যাকম ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ রাজউকের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে নির্মাণ কার্য পরিচালনা করায় জনমনে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছে। রাজউকের পত্রে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্মাণ কাজ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে-চলমান অবৈধ নির্মাণ কাজ ইমারত নির্মাণ আইন-১৯৫২এর ৩ ধারার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। ধানমন্ডির থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই ইকবাল উক্ত স্থানে এসে কাজ বন্ধ করার অনুরোধ জানালেও অবৈধ নির্মাণকারীরা প্রকল্পের চতুর্দিক ঢেকে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। অত্র এলাকার বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে- প্রশাসন ও রাজউকের সহায়তা পেয়েই তারা চতুর্দিক ঢেকে রাখার পরামের্শে অবৈধ নির্মাণ কাজ চালাচ্ছে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে- মেসার্স এ্যাকম ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনস্ট্রাকশন লিঃ এর নামে কোন বরাদ্দপত্র নেই । দীর্ঘদিন ধরে তিনি প্লটটি দখলে রেখেছেন। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক ও ফ্যাসিস্ট এমপি (কুমিল্লা-৫) এম এ জাহেরের কাছে নির্মিয়মান ভবনের জায়গাটি ভাড়া দিয়েছেন। মূলত: এমএ জাহেরের অর্থে তার সাথে যোগসাজশে উক্ত স্থানে মার্কেট নির্মাণ করা হচ্ছে। এম এ জাহেরসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ছাত্রদল নেতা গোলাম কিবরিয়ার চোখ উপড়ে ফেলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এর আগেও ধানমন্ডি এলাকায় জনসাধারণের খেলার মাঠসহ বিভিন্ন সরকারি বা খাস জমি বিভিন্ন গোষ্ঠীর দখলে থাকার অভিযোগ উঠে, এবং এসব দখলের মোকাবিলায় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও উঠেছিল।
এলাকাবাসী আশা করছেন, দ্রুত তদন্ত ও আইনানুগ পদক্ষেপের মাধ্যমে সঠিক মালিকানা যাচাই ও জমির অবৈধ দখল ও ভবন নির্মাণ বন্ধ করে সাধারণ মানুষের স্বার্থ সংরক্ষণ ও শহরের পরিকল্পিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
