বিশ্বে ৯ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ ছানিতে আক্রান্ত

বিশ্বজুড়ে ছানিজনিত দৃষ্টিহীনতা মোকাবিলায় জরুরি উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)। সংস্থাটি বলছে, চিকিৎসা সহজ ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি মানুষ প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সুযোগ পাচ্ছেন না।

সম্প্রতি চিকিৎসাবিষয়ক সাময়িকী দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে বিশ্বে অন্তত ৯ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ছানির সমস্যায় ভুগছেন। গত দুই দশকে ছানি অপারেশনের হার প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। তবে জনসংখ্যার বার্ধক্যজনিত বৃদ্ধির কারণে রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। এ অবস্থায় বর্তমান গতিতে এগোলে ২০৩০ সালের নির্ধারিত বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আফ্রিকান অঞ্চলকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে প্রতি চারজন আক্রান্তের মধ্যে তিনজনই চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া পুরুষদের তুলনায় নারীরা ছানি অপারেশনের ক্ষেত্রে বেশি পিছিয়ে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দক্ষ চক্ষু চিকিৎসকের ঘাটতি, চিকিৎসা ব্যয়ের চাপ এবং সচেতনতার অভাব—এই তিনটি বিষয় পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

চিকিৎসকদের মতে, চোখের লেন্সে অস্বচ্ছতা তৈরি হওয়াই ছানি। সাধারণত মাত্র ১৫ মিনিটের একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে এ সমস্যা সমাধান সম্ভব। ডায়াবেটিস, তামাক সেবন এবং অতিরিক্ত অতিবেগুনি (ইউভি) রশ্মির সংস্পর্শে আসা ছানি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার আওতায় নিয়মিত চোখ পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা এবং গ্রামীণ এলাকায় প্রশিক্ষিত জনবল বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। একই সঙ্গে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।

আরো