ইইউতে রপ্তানি কমায় চাপে পোশাক খাত

দেশের তৈরি পোশাক খাতে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রপ্তানি আয় কমেছে ২ দশমিক ৮২ শতাংশ। এই সময়ে প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানি কমেছে ৪ শতাংশের বেশি। মূলত তৈরি পোশাকের রপ্তানি বাজারে প্রায় অর্ধেক প্রতিনিধিত্ব করা এই দেশটিতে রপ্তানির বড় ধাক্কায় সার্বিকভাবে পোশাকের রপ্তানি কমে গেছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) দেশভিত্তিক পোশাক রপ্তানির ওপর হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে পোশাক রপ্তানি থেকে মোট আয় হয়েছে ৩১ দশমিক ৭২ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে নিটওয়্যার রপ্তানি কমেছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ওভেন খাতে কমেছে ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

গত ১০ মাসে ইইউ অঞ্চলে ১৫ দশমিক ৫৪ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে, যা মোট রপ্তানির প্রায় ৪৯ শতাংশ। এই অঞ্চলের আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৩৮ শতাংশ কমেছে।

এছাড়া অপ্রচলিত বা নন-ট্র্যাডিশনাল বাজারেও পোশাক রপ্তানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। অপ্রচলিত দেশগুলোতে ৫ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির মাধ্যমে মোট রপ্তানি বাজারের ১৬ শতাংশের বেশি দখল রয়েছে। তবে গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসের তুলনায় এবার একই সময়ে এসব বাজারে রপ্তানি আয় কমেছে ৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রধান বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) রপ্তানিতে বড় ধরনের পতনই সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচক করেছে। এছাড়া অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কমে যাওয়া এক্ষেত্রে কিছুটা নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের বাজারে পোশাক রপ্তানি সামান্য বেড়েছে। বাংলাদেশের মোট পোশাক রপ্তানি বাজারে এই তিনটি দেশের অবদান যথাক্রমে ১৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ, ৩ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং ১১ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

আলোচিত ১০ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাকের রপ্তানি শূন্য দশমিক ৯৮ শতাংশ বেড়ে ৬ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলার, কানাডায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলার এবং যুক্তরাজ্যে শূন্য দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়ে ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপে অর্থনৈতিক ধীরগতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় সংকোচনের কারণে পোশাকের চাহিদা কমেছে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও ব্র্যান্ডগুলো নতুন অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিতে। বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির উন্নতি না হলে আগামী মাসগুলোতেও পোশাক খাতে চাপ অব্যাহত থাকতে পারে বলে মনে করছেন তারা। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য প্রতিযোগিতাও বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।

আরো