পরিবেশবান্ধব উদ্যোগে ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এ তিন সম্মাননা জিতেছে ওয়ালটন
টেকসই শিল্পায়ন এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে দেশের শীর্ষ প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এ তিনটি সম্মাননা অর্জন করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘মোস্ট সাসটেইনেবল ইলেকট্রনিক আইটেম ম্যানুফ্যাকচারার অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার।
শনিবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর র্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলে আয়োজিত ‘এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’-এর চতুর্থ আসরে ওয়ালটনের হাতে এ সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
‘অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ক্লিন এনার্জি’ ক্যাটাগরিতে নেট-জিরো উদ্যোগ ও জ্বালানি দক্ষতা কর্মসূচির জন্য এবং ‘ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ ক্যাটাগরিতে সবুজ রূপান্তর ও জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের জন্য এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ড অর্জন করে ওয়ালটন। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি ‘মোস্ট সাসটেইনেবল ইলেকট্রনিক আইটেম ম্যানুফ্যাকচারার অব দ্য ইয়ার’ স্বীকৃতিও লাভ করে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালেও ওয়ালটন একই আয়োজনে তিনটি ক্যাটাগরিতে সম্মাননা অর্জন করেছিল। টানা দ্বিতীয় বছরের মতো এই স্বীকৃতি পেল প্রতিষ্ঠানটি।
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির পক্ষে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, শাহজালাল হোসাইন লিমন, তানভীর আনজুম ও প্রতীক কুমার মোদক, চিফ মার্কেটিং অফিসার জোহেব আহমেদ এবং ইএইচএস অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি বিভাগের প্রধান মো. মোস্তাফিজুর রহমান রাজু সম্মাননাগুলো গ্রহণ করেন।
পুরস্কারপ্রাপ্তির প্রতিক্রিয়ায় ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ইউসুফ আলী বলেন, টানা দ্বিতীয়বারের মতো এসডিজি ব্র্যান্ড চ্যাম্পিয়ন অ্যাওয়ার্ডের তিনটি সম্মাননা অর্জন ওয়ালটনের জন্য অত্যন্ত গৌরবের। এই স্বীকৃতির জন্য তিনি আয়োজক ও বিচারকমণ্ডলীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং বাংলাদেশের জাতীয় জ্বালানি নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ওয়ালটন তাদের উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি ও পানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নকে এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটনের নিজস্ব কারখানায় সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ছাদভিত্তিক, ভূমিভিত্তিক এবং দেশের বৃহত্তম ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ মোট ১৯ দশমিক ২০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
বর্তমানে এসব সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বছরে প্রায় ২২ হাজার ৪৫০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা (MWh) বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে, যা ওয়ালটনের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৭ শতাংশ পূরণ করছে।
ওয়ালটন জানায়, পরিবেশ সংরক্ষণে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ইটিপি)-এর মাধ্যমে পরিশোধিত বর্জ্য পানির প্রায় ৭৫ শতাংশ পুনর্ব্যবহার করছে। একই সঙ্গে ই-বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনর্ব্যবহার, প্লাস্টিক রিসাইক্লিং এবং আপসাইক্লিং কার্যক্রমও সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যা বর্জ্য হ্রাস এবং সম্পদের কার্যকর ব্যবহারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, এসব উদ্যোগ শুধু পরিবেশবান্ধব নীতিমালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই শিল্পায়ন, দায়িত্বশীল উৎপাদন এবং করপোরেট সাসটেইনেবিলিটি নিশ্চিত করার বাস্তব প্রয়াসেরই প্রতিফলন।
বাংলাদেশ ইনোভেশন কনক্লেভ, সাসটেইনেবল ব্র্যান্ড ইনিশিয়েটিভ এবং বাংলাদেশ ব্র্যান্ড ফোরামের যৌথ উদ্যোগে এ পুরস্কারের আয়োজন করা হয়। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বীকৃতি দিতেই এই আয়োজন।
এ বছর ১৯টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪৫৭টি মনোনয়ন জমা পড়ে। কঠোর মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শেষে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসিসহ ৫৯টি ব্র্যান্ড উদ্যোগকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হয়।