অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখার ভল্ট থেকে টাকা চুরি ও আত্মসাৎ
এ যেন মরার উপরে খাড়ার ঘা, যেখানে সরকার বারবার বলছে ব্যাংকগুলোতে টাকা নেই। কোন ব্যাংকই গ্রাহকের টাকা দিতে পারছে না, অথচ এই সময় ব্যাংকের অসাধু কর্মকর্তারা জালিয়াতির মাধ্যমে ভল্ট থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেই চলেছে।
অগ্রণী ব্যাংকের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে গ্রাহকরা দুর্বল ব্যবস্থাপনাকেই অনিয়মের প্রধান কারণ বলছে ব্যাংকের গ্রাহকরা। ঘটেছে একাধিক বড় আর্থিক কেলেঙ্কারি
স্বায়ত্তশাসিত অগ্রণী ব্যাংকের বিভিন্ন শাখায় একের পর এক ঘটছে জালিয়াতি অর্থ আত্মসাৎ, ভল্ট থেকে টাকা চুরি ও আর্থিক অনিয়মের ঘটনা। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকটির নিরাপত্তা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
খবর নিয়ে জানা যায়, অগ্রণী ব্যাংকের নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর শাখায় সংঘটিত হয়েছে এযাবত কালের সবচেয়ে বড় ঘটনা যা ২০২৩-২৪, ২৫, এর ঘটনাকে ও হার মানিয়েছে। রংপুর সার্কেল প্রধান জিএম স্বপন কুমার ধর, সৈয়দপুর শাখার সিনিয়র অফিসার আলিমুল আল রাজি তমাল জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৬৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে। এ ঘটনায় আলিমুল আল রাজি তমাল বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।
তদন্তে জানা গেছে, তমাল সিএনডি লেজারে মোট ১৩২,২৬,২২,৯৮১ টাকা (ডেবিট ও ক্রেডিট উভয়) ভুয়া লেনদেন সৃষ্টি করেন। এর মধ্যে তিনি ০৩/১২/২০২৫ তারিখে ৩০,০০,০০,০০০ টাকা, ২৮/১২/২০২৫ তারিখে ৭,০৭,৩৪,৮১১ টাকা সিএনডি লেজারে ভুক্তি দেন। এছাড়া ০৬/১২/২০২৫ তারিখে ইস্যুকৃত ৫,৭৮,৩৪,৮১১ টাকার একটি আইবিডিএ চেক কালেকশন না করে ড্রয়ারে ফেলে রাখেন। এর ফলে ৩০,০০,০০,০০০ টাকা ও ৭,০৭,৩৪,৮১১ টাকা এবং ৫,৭৮,৩৪,৮১১ টাকা মিলিয়ে মোট ৪২,৮৫,৬৯,৬২২ টাকা হিসাব বহির্ভূত স্থিতি সৃষ্টি হয়। এই অর্থ সমন্বয় করা সম্ভব না হওয়ায় পুরো টাকাই আত্মসাৎ হয়েছে বলে তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এছাড়া আরও বিভিন্ন ভাউচারের মাধ্যমে প্রায় ২৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। সব মিলিয়ে আত্মসাৎকৃত অর্থের পরিমাণ প্রায় ৬৬ কোটি টাকা।
অগ্রণী ব্যাংকের দ্বিতীয় অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার কাশিনাথপুর শাখায়। শাখার ভল্ট থেকে ১০ কোটি ১৩ লক্ষ ৬২ হাজার ৩৭৮ টাকা আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। এ শাখার প্রধান তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গ্রেপ্তার কর্মকর্তারা হলেন- অগ্রণী ব্যাংক কাশিনাথপুর শাখার প্রিন্সিপ্যাল অফিসার আবু জাফর, ব্যবস্থাপক হারুন বিন সালাম ও ক্যাশিয়ার সুব্রত চক্রবর্তী।
এদিকে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে অগ্রণী ব্যাংকের ছেংগারচর বাজার শাখার ভল্ট থেকে ৭৫ লাখের বেশি টাকা নিয়ে ব্যাংকটির ক্যাশ কর্মকর্তা দীপঙ্কর ঘোষ (৩৭) উধাও হয়ে যান। এ ঘটনায় মতলব উত্তর থানায় একটি মামলা করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. ইউসুফ মিয়া। অর্থ আত্মসাতের ঘটনা তদন্তে ঢাকার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে চার সদস্যের একটি কমিটি ও করা হয়।