এবার দুদক ও প্রশাসনে শহিদুলের দৌড়ঝাঁপ, মিডিয়া ম্যানেজ ব্যর্থ
স্টাফ রিপোর্টার: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর্মকর্তা শহিদুল ইসলামের অগণিত অবৈধ সম্পদের তথ্য সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর সারাদেশে চরম তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। একে একে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে তার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি, কানাডায় দুই ছেলের বিলাসবহুল জীবন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের রোমহর্ষক কাহিনী প্রকাশিত হতে থাকে। গত ২৫ মে অসুস্থতার অজুহাতে মালয়েশিয়া যাওয়ার কথা বলে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে পাড়ি জমান চতুর এই কর্মকর্তা। এরপর গত ২ জুলাই গভীর রাতে থাই এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে অত্যন্ত গোপনে দেশে ফিরে বর্তমানে তিনি রূপ আত্মগোপনে রয়েছেন। গোপন আস্তানায় বসে প্রথমে তিনি মিডিয়াকে কবজায় আনার এক অভিনব কৌশল গ্রহণ করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার দুর্নীতির ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশ বন্ধে দেনদরবার ও সমঝোতার চেষ্টা চালান তিনি। শহিদুলের ইশারায় চলা তার হাফ ডজন নিকট আত্মীয় ও বিশ্বস্ত প্রতিনিধি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অফিসে অফিসে গিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব ও চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করেন। তবে কয়েকটি জায়গায় তারা ব্যর্থ হন এবং বিশেষ করে ‘আকাশবাণীবিডি২৪’ অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কয়েকটি এক্সক্লুসিভ নিউজ ভাইরাল হয়ে যাওয়ায় পুরো পরিকল্পনা ভস্তে যায়।
মিডিয়া ম্যানেজ করার সব পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন এনবিআরের এই সাবেক নীতিনির্ধারক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহিদুল ইসলামের অত্যন্ত কাছের একজন আত্মীয় নিশ্চিত করেছেন যে, সংবাদমাধ্যমে খবর আসা বন্ধ করার আশা তিনি পুরোপুরি ছেড়ে দিয়েছেন। মিডিয়ার প্রতি হাল ছেড়ে দিয়ে শহিদুল ইসলাম এখন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। কারণ অভিজ্ঞ এই আমলা খুব ভালো করেই জানেন যে কোন আইনি প্রক্রিয়া বা নথিপত্র থেকে তার পতন শুরু হতে পারে। যেখানেই তার দুর্নীতির ফাইল চালাচালি বা অনুসন্ধানের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে, সেখানেই তিনি প্রভাব বিস্তার ও তদবির চালিয়ে তা ফাইলবন্দি করার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
নিজের পতন ঠেকাতে প্রশাসনিক তদবিরের পাশাপাশি দেশে থাকা হাজার কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ দ্রুত বিক্রি করে সেই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করার মূল মাস্টারপ্ল্যানও সচল রেখেছেন তিনি। এর মধ্যে রয়েছে কানাডার ভিলে মন্ট রয়ালে দুই জমজ ছেলে অমিত ও অনিকের জন্য কেনা দুটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও স্পোর্টস কারের পেছনে পাচারকৃত অর্থের উৎস আড়াল করার চেষ্টা। একই সাথে জলসিঁড়ি আবাসন প্রকল্পের ২ নম্বর সেক্টরের ৫ কাঠার আবাসিক প্লট ও ১৬ নম্বর সেক্টরের সাড়ে ৪ কাঠার বাণিজ্যিক প্লট, আফতাবনগরের দুটি প্লট এবং বনশ্রীর বাড়িসহ তিনটি মূল্যবান জমি দ্রুত বিক্রির প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার জি ব্লকের ‘শেল কবিতা’ নামক ১০০ কোটি টাকার ভবনসহ একাধিক প্লট, সাভারের মধুমতি মডেল টাউনের ৩৫ কাঠার বাংলোবাড়ি ‘সেঁজুতি’ ও ৩২০ কাঠার বাণিজ্যিক প্লট, রাজউকের পূর্বাচল সংলগ্ন আমেরিকান সিটিতে ১০৪ কাঠা জমি, শাহবাগ ও নিউমার্কেটের দোকান এবং মিরপুরে স্ত্রীর নামে থাকা ৩০ কোটি টাকার ভবন হস্তান্তরের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। একদিকে প্রশাসন ও দুদকে দেনদরবার এবং অন্যদিকে অবৈধ অর্থ পুরোপুরি বিদেশে সরিয়ে নেওয়ার এই দৌড়ঝাঁপ শহিদুলের চরম আতঙ্ক ও রাজনৈতিক-আইনি বিপর্যয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শহিদুল ইসলামের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু সম্ভব হয়নি।