এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত: সেতু বিভাগের

 
 
আজ সেতু বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ-এর সভাপতিত্বে ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প’-এর সার্বিক অগ্রগতি, বাস্তবায়ন চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
 
সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন প্যাকেজের বর্তমান ভৌত ও আর্থিক অগ্রগতি নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হয়। মাঠপর্যায়ে কাজের বর্তমান অবস্থা, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা এবং আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সর্বোচ্চ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি, নির্মাণ কাজের গতি আরও বেগবান করতে এবং উদ্ভূত যে-কোনো জটিলতা দ্রুত নিরসনে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
 
সভায় সভাপতির বক্তব্যে সেতু সচিব জনাব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, বর্তমান সরকারের আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তন আসছে। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী দিকনির্দেশনা, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, নিয়মিত তদারকি এবং প্রকল্পের আরডিপিপি অনুমোদনের মাধ্যমেই ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মতো মেগা প্রকল্পগুলো আজ সফলভাবে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে চলছে। তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী এবংমাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী নেতৃত্ব ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপে দেশের যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে।
 
সেতু সচিব আরও বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানী ঢাকার সাথে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হবে। সাভার, আশুলিয়া, বাইপাইল ও ইপিজেড এলাকার সাথে ঢাকার প্রবেশগম্যতা সহজ হওয়ার পাশাপাশি এটি সামগ্রিক যানজট নিরসনে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। অধিকন্তু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে সাথে সংযোগের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনে মুখ্য ভূমিকা পালন করবে। প্রকল্পের কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ে সম্পন্ন করার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
 
এছাড়া সভায় নির্মাণাধীন এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ জনগণের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত ট্যাফিক ব্যবস্থাপনা, সাইনবোর্ড এবং উন্নত নিরাপত্তা বেষ্টনী নিশ্চিত করা; প্রকল্পের অবশিষ্ট অংশের ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত চূড়ান্ত করা এবং পাইপলাইন, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিযোগাযোগের আন্ডারগ্রাউন্ড ইউটিলিটি লাইন দ্রুত স্থানান্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় জোরদার করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি কাজের মান ও গতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে নিয়মিত বিরতিতে প্রজেক্ট স্টিয়ারিং কমিটি, কনসালট্যান্ট এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের যৌথ সাইট ভিজিট ও মাসিকসমন্বয় সভা করার পরামর্শ প্রদান করা হয়।
 
সভায় সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্প পরামর্শক এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভাশেষে সচিব মহোদয় প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট কিছু চ্যালেঞ্জ দ্রুত সমাধান এবং নির্ধারিত সময় ২০২৮ এর জুন মাসের মধ্যে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্টদের সুনির্দিষ্ট রূপরেখা প্রদান করেন।

আরো