ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন, স্বস্তি কবে?
বর্ষাকাল চললেও দেশে আপাতত কোনো তীব্র তাপপ্রবাহ নেই। তবে বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের প্রভাবে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরমে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে জনজীবন। আকাশ মেঘমুক্ত হতেই সূর্যের খাড়া আলোয় দ্রুত তাপমাত্রা বাড়ছে এবং বৃষ্টির বিরতিতেই অনুভূত হচ্ছে তীব্র দাবদাহ। বর্ষার উচ্চ আর্দ্রতাজনিত এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে আপাতত মুক্তির কোনো সম্ভাবনা নেই।
শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, আগামী অক্টোবরের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহের আগে আবহাওয়ায় বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের আশা নেই।
সংস্থাটি জানায়, মৌসুমি বায়ুর বিদায় এবং সূর্যের অবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে এই আবহাওয়ার পরিবর্তন। অক্টোবর মাসের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে বাংলাদেশ থেকে মৌসুমি বায়ু বিদায় নিতে শুরু করবে। একই সঙ্গে সূর্যও ধীরে ধীরে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে সরে যাওয়ায় প্রখর রোদের তীব্রতা অনেকটাই কমে আসবে। ফলে অক্টোবর মাসের শেষ দিকে গিয়ে এই অস্বস্তিকর আবহাওয়া পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হতে পারে। তবে এর মাঝে যদি ভারী বৃষ্টিপাত বা কোনো শক্তিশালী বৃষ্টি বলয় সক্রিয় হয়, তবে সাময়িকভাবে ভ্যাপসা গরম কিছুটা প্রশমিত হতে পারে। তবে বৃষ্টি থামার পরপরই আবার বাড়বে আর্দ্রতাজনিত গরম।
বিডব্লিউওটি আরও জানায়, জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে ঘন ঘন বৃষ্টি হওয়ায় তাপমাত্রা খুব বেশি বাড়তে পারে না। কিন্তু সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অন্যান্য মাসের তুলনায় কিছুটা কমে আসে। এর ফলে সেপ্টেম্বরে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভ্যাপসা গরম আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, সেপ্টেম্বরে বৃষ্টি বিরতির সুযোগে দেশে এক থেকে দুটি মৃদু তাপপ্রবাহও সক্রিয় হতে পারে। তাই আরামদায়ক আবহাওয়া পাওয়ার আগে অন্তত আগামী দুই মাস এই ভ্যাপসা গরমের সঙ্গেই মানিয়ে নিয়ে চলতে হবে।
