রৌমারীতে ৭৬ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, দখলচেষ্টার অভিযোগে উত্তেজনা

মোস্তাফিজুর রহমান তারা,রৌমারী (কুড়িগ্রাম): কুড়িগ্রামের রৌমারীতে দীর্ঘ ৭৬ বছর ধরে ভোগদখলে থাকা বসতবাড়ি ও জমি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। প্রতিপক্ষের লোকজন কথিত একটি দলিলের ভিত্তিতে ওই সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করছে—এমন অভিযোগ করেছেন বর্তমান ভোগদখলকারী পরিবারের সদস্যরা। এ নিয়ে এলাকায় টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে ক্ষেত্রনাথ বর্মণ, দোয়েল বর্মণ ও বসন্ত কুমার বর্মণের কাছ থেকে ইব্রাহিম মণ্ডলের মা সোনাভান বিবির নামে ৩ একর ৪ শতাংশ জমি পত্তনি নেওয়া হয় বলে দাবি করা হচ্ছে। এরপর থেকে সোনাভান বিবি ও তাঁর ওয়ারিশরা ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ, ফসল চাষ, পুকুর ও বাগানসহ বিভিন্ন স্থাপনা করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন বলে তাঁদের পক্ষের দাবি।

অন্যদিকে, কিসমত ও মোকছেদ গং ১৯৫২ সালে একই দাগের—১০৬৭ ও ১০৪১—৩ একর ৪ শতাংশ জমি শ্রী বৈরাগী বর্মণ, শ্রী সাধুরাম বর্মণ, শ্রী সন্ন্যাসী বর্মণ, শ্রী কেলুরাম বর্মণ, শ্রী মহানন্দ বর্মণ ও শ্রী গদ্দারাম বর্মণের কাছ থেকে কবলা নেওয়া হয়েছে বলে একটি দলিল উপস্থাপন করেছেন।

এ নিয়ে সোনাভান বিবির ওয়ারিশদের প্রশ্ন, ১৯৪৭ সালে মূল মালিকদের কাছ থেকে তাঁদের পূর্বসূরি জমি পত্তনি নেওয়ার পর একই জমি কীভাবে ১৯৫২ সালে ৫ বছর পরে অন্য পক্ষ মূল মালিকদের ওয়ারিশদের কাছ থেকে কবলা নিলেন। তাঁদের দাবি, প্রতিপক্ষের উপস্থাপিত দলিলের নকল সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করলে দলিলে ওভাররাইটিংসহ বিভিন্ন অসামঞ্জস্য চোখে পড়ে।

অভিযোগকারীদের আরও দাবি, দলিলের স্ট্যাম্পের ক্ষেত্রেও অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলিলের একটি স্ট্যাম্পে লেখা ইন্ডিয়া, অপর একটিতে পাকিস্তান এবং কয়েকটি পাতা সাদা কাগজে লেখা রয়েছে। এসব কারণে দলিলটির প্রকৃততা ও বৈধতা নিয়ে তাঁদের মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, ওই সম্পত্তির এসএ ও আরএস রেকর্ড নিয়েও বিরোধ রয়েছে। সোনাভান বিবির ওয়ারিশদের দাবি, দীর্ঘদিনের পত্তনি, রেকর্ড ও বাস্তব ভোগদখলের ভিত্তিতে তাঁরা জমিটি ভোগ করে আসছেন। বিপরীতে প্রতিপক্ষ এসএ ও আরএস রেকর্ড এবং ১৯৫২ সালের কথিত কবলা দলিলের ভিত্তিতে জমির ওপর নিজেদের অধিকার দাবি করছেন।

অপরদিকে ৬০,/৩ সালে জিন্নাত আলী গং ইব্রাহিম আলী গংদের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সিনিয়র জর্জ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলাটি দীর্ঘদিন চলার পর ২০০৭ সালে দোতরফা সুত্রে ইব্রাহিম আলীর পক্ষে রায় দন, বিজ্ঞ আদালত। উক্ত
বিরোধের জেরে উভয় পক্ষই আদালতের আশ্রয় নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে কুড়িগ্রামের দেওয়ানি আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। ফলে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের বৈধতা, রেকর্ডের সঠিকতা এবং দখলের আইনগত অধিকার—এসব বিষয় বর্তমানে আদালতের বিচারাধীন।

ভোগদখলকারী পক্ষের অভিযোগ, মামলা চলমান থাকা অবস্থায়ও প্রতিপক্ষ ভাড়াটে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের যুবলীগের সহসভাপতি রফিকুল ইসলাম নানজুসহ অনেকে জমিতে প্রবেশ ও দখলের চেষ্টা করে তাদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে প্রতিপক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার কোন কথা বলতে রাজি নন বলে জানান।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বিষয়টি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই কোনো পক্ষ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেয়। আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিরোধের শান্তিপূর্ণ ও আইনসম্মত নিষ্পত্তিই প্রত্যাশা করছেন তারা।

আরো