বাগেরহাটে ঘেরের মাছ লুট ও হামলার অভিযোগ, আহত ৭

বাগেরহাট প্রতিনিধিঃবাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের ধূমকালিপুর গ্রামে মাছের ঘের নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা, মাছ লুট ও বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নারীসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে আলী মৃধার মাছের ঘের ও বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
তাদের দাবি, হামলায় অভিযুক্ত কয়েকজন আগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ ঘটনায় প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তারা।

আহত হয়ে সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন আলী মৃধা (৬০), রেশমা বেগম, সবুজ ফকির ও মেরজান।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রায় ১০ বিঘা জমি ইজারা নিয়ে তারা মাছ চাষ করছেন। ওই ঘেরের মধ্যে প্রতিপক্ষের ১৪ কাঠা জমি রয়েছে। এ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর আগেও ঘের থেকে মাছ নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি তাঁদের।
মঙ্গলবার সকালে ঘেরে মাছ ধরতে গেলে জসিম দর্জি, হাসান দর্জি, জাহাঙ্গীর দর্জি, মিনাজ দর্জি ও এশা দর্জিসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আলী মৃধাসহ কয়েকজনকে মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়। পাশাপাশি ঘেরের মাছ ও জাল নিয়ে যাওয়া এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

আলী মৃধা বলেন, আমি ঘেরে মাছ ধরছিলাম। এ সময় হাসান দর্জি, জাহাঙ্গীর দর্জি, মিনাজ দর্জি ও জসিম দর্জিসহ কয়েকজন এসে আমার ওপর হামলা চালায়। তারা ঢাল, সড়কি, দা ও রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আসে। আমাকে মারধর করে এবং সড়কি দিয়ে আঘাত করে। আমার লোকজনকেও মারধর করেছে। একপর্যায়ে ঘেরের মাছ লুট করে নিয়ে যায়। আমার ঘর ও জামাতার ঘর ভাঙচুর করে দরজা-জানালা নষ্ট করে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, ১০ বিঘার ঘেরের মধ্যে তাদের ১৪ কাঠা জমি রয়েছে। আমি তাদের ইজারার টাকা নেওয়ার অথবা নিজেদের জমি আলাদা করে ঘের কেটে নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। এর আগেও ঘের থেকে মাছ নিয়ে গেছে। এ বিষয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েও প্রতিকার পাইনি বলে আমার অভিযোগ। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা চাই।

আলী মৃধার ছেলে মোজাহিদুল মৃধা বলেন,সকালে ঘেরে মাছ ধরতে গেলে জসিম, জাহাঙ্গীর দর্জি, হাসান দর্জি ,মিনাজ দর্জিসহ কয়েকজন আমার বাবাকে কুপিয়ে জখম করে। তারা জাল ও মাছ নিয়ে যায়। এর আগেও কয়েক দফায় ঘের থেকে মাছ লুটের ঘটনা ঘটেছে। ঘেরের মধ্যে তাদের ১৪ কাঠা জমি রয়েছে। আমরা ইজারার টাকা নেওয়া অথবা তাদের জমি আলাদা করে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা রাজি হয়নি। স্থানীয় নেতাদের কাছে গিয়েও সালিশের মাধ্যমে সমাধান পাইনি বলে আমাদের অভিযোগ।

তিনি আরও বলেন,ঘের করতে অনেক টাকা ধারদেনা করেছি। এখন পাওনাদাররা চাপ দিচ্ছেন। বাবাকে আহত করার পর আমরা চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছি। ঘেরটি ফিরে পেতে এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

আলী মৃধার আরেক ছেলে বাবু মৃধা বলেন, ধারদেনা করে ঘের ইজারা নিয়ে আমরা মাছ চাষ করি। আগের বছর ও‌ মাছ চাষ করছি এবার ও হাড়ির টাকা দিয়ে করছি।মাছ বড় হওয়ার পর এখন ও পর্যন্ত মাছ ধরতে পারি নাই। আমাদের ওপর হামলা করে আমার বাবাকে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়েছে । এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত আমি এর বিচার চাই।
আহত রেশমা বেগম বলেন,আমার বাবার সম্পত্তি ইজারা নিয়ে আমরা মাছ চাষ করছি। গত বছরও করেছি, এবারও ইজারা নিয়েছি। মাছ ধরতে গেলে তারা আমাদের ওপর হামলা করে। আমাদের মারধর করেছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করেছে এবং মাছ নিয়ে গেছে। আমার বাবাকেও কুপিয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।

ভুক্তভোগীদের দাবি, হামলায় অভিযুক্ত জসিম দর্জি, হাসান দর্জি, জাহাঙ্গীর দর্জি ও মিনাজ দর্জিসহ কয়েকজন আগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসান দর্জি বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সদস্যসচিব ছিলেন। এ ছাড়া মারুক দর্জি ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন বলে দাবি তাদের।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে জসিম দর্জির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সামসুল আরেফিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো