পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের বৈধভাবে জায়গা জমি কেনার কথা
মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া, খাগড়াছড়ি
কুখ্যাত ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি১৭৬০ সালে নবাব মির কাসেম আলী থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।চাকমারা”ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির”শাসন মানতে অস্বীকার করলে কোম্পানির সাথে চাকমাদের যুদ্ধ বাধে।যুদ্ধে চাকমারা সূচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে ইংরেজদের বৈশ্যতা স্বীকার করে নেয়।
ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি-তাদের “বিনোদন” “কর্পোর চাষ” ও “কর” আদায়ের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ১৯০০ সালে “পার্বত্য চট্টগ্রাম রেগুলেশন অ্যাক্ট”- আইন জারি করেন।যা ১৯০০ সালের শাসনবিধি আইন নামে পরিচিত।কার্যত:যা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসাংবিধানিক।
১৯৫৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে “বিশেষ জেলা”হিসেবে স্বীকৃত থাকলেও ১৯৬২ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামকে”বিশেষ জেলা”থেকে বাদ দেওয়া হয়।তাছাড়া ১৯৬৩ সালে সংবিধান সংশোধন করে পার্বত্য চট্টগ্রামকে”বিশেষ অঞ্চলের”মর্যাদা বাতিল করা হয়।১৯৬৫ সালে পূর্ব পাকিস্তানের হাইকোটে এক আদেশে বলা হয়-“যেসব অ-উপজাতি(অর্থাৎ পাহাড়ি নয়)তারা যদি ১৫ বছর বা ততোধিক বেশি সময় ধরে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করে,তারা সেখানে বৈধভাবে জমি কিনতে পারবে”।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো-“১৯৮৯ সালের ১০ই জানুয়ারি তৎকালীন উপ-রাষ্ট্রপতি ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ স্বাক্ষরিত জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে-“৩টি পার্বত্য জেলায় পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন বলবত হওয়ার সাথে সাথেই পার্বত্য চট্টগ্রামে পূর্বে বলবত কুখ্যাত ১৯০০ সালের কুখ্যাত কোম্পানি আইন রদ ও রহিত হয়ে যায়”।
প্রশ্ন জাগে
“তাহলে কিভাবে ১৯০০ সালের কোম্পানি আইন বলবৎ রেখে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংসদের ভোটে পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন পাস হয়”?
এ বিষয়ে বর্তমানে”মহামান্য হাইকোর্টে শুধু একটি রিট পিটিশন দায়ের করলেই বর্তমানে বলবৎকৃত বেআইনি ও সাংবিধানিক কুখ্যাত ১৯০০ সালের শাসনবিধি সম্পূর্ণ অ- কার্যকর হয়ে যাবে”।
কোন সুহৃদয়বান ব্যক্তি এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নিলে সর্বক্ষেত্রে সহযোগিতা করা যেতে পারে।
