ফ্যামিলি-কৃষক কার্ড কর্মসূচি ও খাল খননে কেউ যেন বাধা দিতে না পারে: প্রধানমন্ত্রী
ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড কর্মসূচিসহ খাল খনন কর্মসূচিতে কেউ যেন বাধা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) বিকেলে চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় খাল পুনর্খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের সজাগ থাকতে হবে, যাতে খাল কাটা কর্মসূচিতে কেউ বাধা দিতে না পারে। একইভাবে মায়েদের হাতে, বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেয়ার যে কর্মসূচি রয়েছে, তাতেও যেন কেউ বাধা সৃষ্টি করতে না পারে।
তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি একসঙ্গে কাজ করে, তাহলে বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা সম্ভব।
জুলাই শহিদদের স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে এবং তাদের আত্মত্যাগের মূল্য দিতে হলে সবাইকে রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও দেশ গঠনের কাজে অংশ নিতে হবে। এ সময় তিনি জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহিদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় এই এলাকায় সাতজন তাজা প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। এসব মৃত্যুর কারণ ছিল জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। তিনি আরও বলেন, আন্দোলনে শুধু বিএনপিরই বহু নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন এবং সারাদেশে শত শত নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন।
পরে ‘খোদ খাল’ পুনর্খনন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রায় ৪৮ বছর আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খাল খনন করেছিলেন, যা তখন এলাকার কৃষকদের জন্য উপকারী ছিল। সময়ের সঙ্গে খালটি ভরাট হয়ে যায়। ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনরায় চালু হলে প্রায় দুই হাজার কৃষক পরিবারসহ আশপাশের মানুষ উপকৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পরিবার কার্ড কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, এই প্রতিশ্রুতি আমরা নির্বাচনের আগেই দিয়েছিলাম। দেশের চার কোটি পরিবারের মায়েদের কাছে ধীরে ধীরে এই কার্ড পৌঁছে যাবে। এতে মাসে আড়াই হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হবে। এতে নারীরা সংসারের খরচ, সন্তানদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারবেন এবং ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
বর্তমান বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বিএনপির করা বাজেট নয় এবং এতে ফ্যামিলি কার্ড বা কৃষক কার্ডের জন্য কোনো বরাদ্দ ছিল না। তিনি বলেন, ইনশাআল্লাহ বিএনপি সরকার বাজেট তৈরি করছে, যেখানে ফ্যামিলি ও কৃষক কার্ডের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হবে।
কৃষক কার্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কৃষকদের সার, কীটনাশক ও বীজ কেনার খরচের একটি অংশ সরকারিভাবে সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।
নারী শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার নেয়া উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে। মেয়ে শিক্ষার্থীদের বিনা খরচে ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং ভালো ফলাফলকারীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও থাকবে।
নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে তিনি বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাই তাদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী না করলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়।
বেকারত্ব নিরসনে কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, তরুণদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থান বা ব্যবসা করতে পারে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ও বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি মঞ্চ থেকে শিক্ষামন্ত্রীকে দ্রুত টেকনিক্যাল কলেজ স্থাপনের ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানান।
সবশেষে তিনি ‘করব কাজ, সবার আগে’ স্লোগান দিয়ে উপস্থিত জনতাকে দেশ গঠনের শপথ নিতে আহ্বান জানান।