শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে জানালেন বিএসইসি চেয়ারম্যান
স্টাফ রিপোর্টার:শেয়ারবাজারে চলমান আস্থার সংকট কাটিয়ে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই বাজার ঘুরে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড
এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, বাজারকে বিনিয়োগ বান্ধব ও আকর্ষণীয় করে তুলতে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
১৮ জুলাই শনিবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (এফডিসি) মিলনায়তনে পুঁজিবাজারে আস্থার সংকট নিরসনে করণীয়’ শীর্ষক এক ছায়া সংসদ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
চেয়ারম্যান বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আনতে শুধু রোড শো আয়োজন করলেই হবে না। শেয়ারবাজারকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিজেরা
ই বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয়।
আমরা যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছি, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়াবে।
বিএসইসির চেয়ারম্যান জানান, বাজারের গভীরতা বাড়াতে বড় ও সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে প্রচলিত আইপিওর পাশাপাশি ডিরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করা হবে।
তিনি বলেন, বিকাশ বা বড় ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলো দীর্ঘ আইপিও প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমিত পরিমাণ শেয়ার ছেড়ে দ্রুত পুঁজিবাজারে আসতে পারবে—এমন নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বহুজাতিক কোম্পানিগুলো কেন শেয়ারবাজারে আসে না, এ প্রসঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, ব্যবসায়িক গোপনীয়তা, প্রযুক্তিগত তথ্য প্রকাশ, স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগসহ বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহ দেখায় না।
এসব প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে বহুজাতিক কোম্পানিকে বাজারে আনতে কমিশন নতুন নীতিগত উদ্যোগ নেবে।
আইপিও প্রক্রিয়ায় অপ্রয়োজনীয় দীর্ঘসূত্রতা রয়েছে উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, অডিটেড আর্থিক প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পরও অতিরিক্ত নথিপত্র চাওয়ায় অনুমোদনে এক থেকে দেড় বছর সময় লেগে যায়।
এ পরিস্থিতি কাটাতে ফরেনসিক অডিট চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে কোম্পানির সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, আয়-ব্যয় ও দায়-দেনাসহ আর্থিক তথ্যের পূর্ণাঙ্গ যাচাই সম্ভব হবে। এতে আইপিও অনুমোদন আরও স্বচ্ছ ও সময়সাশ্রয়ী হবে।
ব্যাংক একীভূতকরণ প্রসঙ্গে বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, এটি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে প্রধান নিয়ন্ত্রক। তবে একীভূত হওয়া অনেক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেশি ও ইকুইটি নেতিবাচক থাকায় প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর সমাধান প্রয়োজন।
অনিয়ম ব্রোকারেজ হাউজেও রয়েছে বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ রোধে নতুন ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর কথাও জানান তিনি।
ডিএসইর নতুন ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে অনুমোদন ছাড়া কোনো বিনিয়োগকারীর মোবাইল নম্বর বা ই-মেইল পরিবর্তন করা যাবে না। পাশাপাশি ঝুঁকিভিত্তিক নিয়মিত অডিটের মাধ্যমে বিশেষ করে ছোট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে।
তিনি আরো বলেন, কমিশন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে নয়, সামগ্রিক বাজারের স্বার্থে কাজ করবে। গুজব ও কারসাজির ফাঁদে পড়ে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে ব্যাপারে বিনিয়োগকারীদের শিক্ষা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। একই সঙ্গে মিউচুয়াল ফান্ড খাতকে শক্তিশালী করার উদ্যোগও নেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিনের কারসাজি, দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ও সুশাসনের ঘাটতির কারণে দেশের শেয়ারবাজারে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকট কাটাতে নিয়ন্ত্রক সংস্থার সংস্কারের পাশাপাশি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।