জনআকাঙ্ক্ষা, বিভাজন, ইতিহাসের বস্তুনিষ্ঠতা ও সংস্কারের অনশ্চিয়তা

মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ, তথ্যচিত্র ও ঐতিহাসিক সত্যের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা বিতর্ক ও অসন্তুষ্টির মধ্যে হারিয়ে যাচ্ছে। আন্দোলনের প্রকৃত তথ্যচিত্র, তথ্যউপাত্ত কারোর কাছে হুবহু বাদ পড়েছে এবং কাঠামোগত সংস্কার বনাম সাংবিধানিক সংশোধনের রূপরেখা কেমন হবে—এসব নিয়ে মতবিরোধ চলছে।
সম্প্রতি এক জাতীয় অনুষ্ঠান প্রর্দশনী জুলাই আন্দোলনের তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) আন্দোলনের সঠিক ধারাবাহিকতা ও বিশিষ্ট কুশীলবদের ভূমিকা সঠিকভাবে না আসার অভিযোগে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনএনসি) এর প্রতিনিধিবৃন্দ একপর্যায়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। হট্টগোলের একপর্যায়ে কূটনীতিকদেরও বেরিয়ে যেতে দেখা যায়। মঞ্চ ছাড়ার আগে এনএনসি সদস্যবৃন্দ বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় একটা প্রোগ্রামে আমরা ইতিহাসের সবকিছুকে আমরা ধারণ করতে মুখ থুবড়ে। আপনারা খেয়াল করে দেখবেন, এই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে যেমন একচেটিয়াভাবে আওয়ামী লীগ দখল করেছিল; ঠিক একই ধরনের একটা পরিস্থিতি এখানে তৈরি হয়েছে।’ আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যচিত্রের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৩ দফা ও ৯ দফার কথা উল্লেখ করা হয়নি। ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট শহীদ মিনার যে এক দফার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়টিও নাই। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফজি উদানি আহমদ বলেন, “ভুলত্রুটি মানুষরে হতেই পারে। সবাই মিলে সসের ভুল সংশোধন করতে হবে। তবে জাতীয় অনুষ্ঠান বানানোর সামনে যে পরিস্থিতি তাঁরা হয়েছে, তাতে তিনি গভীরভাবে ব্যথিত ও মর্মাহত হয়েছেন।” তথ্যচিত্রের শহীদ আবু সাঈদ কিংবা বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালদের খাটো জঙিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ নাম ও ছবি বাদ পড়ার প্রসঙ্গ টেনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকে। ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, “সুযোগ্য শহীদ আবু সাঈদের ছবি ছিল না। অথচ আবু সাঈদ পরিবারের প্রতিনিধি ও প্রতীকী তাঁর ছবি ছাড়া ওই আন্দোলনের কল্পনা তথ্যচিত্রের প্রণাল সম্ভব হতে পারে না।”
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস কাঁচি দিয়ে বারবার জাতীয় স্বার্থের পরিবর্তে কলঙ্কবৃত্তে পরিণত হয়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতার ঘোষক কে—এই প্রশ্নটা দিয়ে চারকে দশক ধরে রাজনৈতিক বিভাজনের অন্যরকম উৎস ছিল। বিশিষ্ট রাজনৈতিক দল, ঐতিহাসিক, যাহারা এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার আলো-চনার মধ্য দিয়ে বিষয়টি বারবার আলোচিত হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ বিতর্কের একটা বাস্তব ফলাফল হলো—জাতীয় ইতিহাসে একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে দলীয় রাজনৈতিক পরিবর্তিত রূপ দেওয়া বা নতুন প্রজন্মের মধ্যে বড়িয়াসূত্র এবং সমাজ বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সময়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ছায়ায় “ঘোষক” বা “কার নেতৃত্বে”—এ ধরনের বিতর্কও একই ধরনের রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একটা গণআন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান সাধারণত বহু ব্যক্তি, সংগঠন ও স্বতঃস্ফূর্ত সাধারণ মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠে। সেখানে একক ব্যক্তি বা একটা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র কৃতিত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা প্রায়ই আন্দোলনের বহুুমাত্রিক বাস্তবতাকে সংকুচিত করে ফেলে।

ইতিহাসের পরবর্তী বড় ঘটনা—মুক্তিযুদ্ধ হোক কিংবা জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান—যুক্তি পাশাপাশি জনগণের সম্মিলিত আত্মত্যাগ, সাহস ও আকাঙ্ক্ষার ফল। যারা রাজনৈতিক পরিবর্তন গতি ইতিহাসে যাযাবর প্রভাবতি করতে, তবে তা কেবল অতীতের মূল্যায়নকে নয়, ভবিষ্যতের জাতীয় ঐক্যকেও দুর্বল করতে পারে। জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে গবেষণা, তথ্য-উপাত্ত সংরক্ষণ এবং নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনার কাজ সময়ের সঙ্গে আরও সুসংহত হবে। তাই এখনই রাজনৈতিক অবস্থান থেকে চূড়ান্ত ইতিহাস নির্ধারণের চেষ্টা না করে গবেষক, ইতিহাসবিদ এবং নিরপেক্ষ অনুসন্ধানের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। ইতিহাসের মূল্যায়ন যত বেশি প্রমাণভিত্তিক হবে, ততই তা দীর্ঘস্থায়ী গ্রহণযোগ্যতা পাবে।
রাজনীতিবিদদের উপদ্ধি করা উচিত যে, ইতিহাসের কলঙ্ক করে দীর্ঘস্থায়ী ব্যারিং হতে পারে না। জাতীয় জন্ম কল্যাণকর নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায়, ঘোষক বা একক কৃতিত্বের স্পর্ধার দ্বৈরথ রাজনৈতিক সংকট জনগণের মৌলিক প্রত্যাশা—সুশাসন, ন্যায়বিচার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন—থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিতে পারে। জুলাইয়ের থেকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক সংঘাতের উপাদানে পরিণত না করে, বরং আন্দোলনের মূল চেতনা, জনগণের আত্মত্যাগ এবং ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রগঠনের লক্ষ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়াই হবে অধিকতর দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ। ঐতিহাসিক খতিয়ানের নয়, শক্তি ও জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি হিসেবে পরবর্তী করাই হওয়া উচিত ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল রাজনৈতিক শক্তির অভিন্ন লক্ষ্য। যার কৃতিত্বের অবদান সত্যের স্বীকৃতি জাতীয় ঐক্যের আরও সুসংহত করবে।
জুলাই জাতীয় সনদের রূপরেখা ও এর আইনি বাস্তবায়ন পক্ষালম্বন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। অনেকে বামপন্থী দল ও ছাত্র সংগঠন সাধারণ সাংবিধানিক সংশোধনের চেয়ে কাঠামোগত ও পদ্ধতিগত আমূল পরিবর্তনের দাবি জানাচ্ছে। তাদের মতে, শুধু খসড়া বা সাধারণ সংশোধন মানুষের জুলাইয়ের প্রকৃত আকাঙ্ক্ষা রক্ষা করা কঠিন হবে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সালাহউদ্দিন আহমদসহ প্রবীণ নীতি নির্ধারকরা জুলাই সনদের দলীলস্বরূপের শক্ত প্রকাশ করে বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দলের বা দলের একার সম্পত্তি নয়; এবং দলীলস্বরূপের চেষ্টা করলে এর মূল অর্জন পরাহত হতে পারে।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের রাজনীতি ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই আন্দোলনের শক্তিটি, শ্রমজীবী, পেশাজীবী, নারী-পুরুষসহ প্রতিটি স্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি বৃহত্তর সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা তৈরি করেছিল। আন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ছিল জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা, আইনের শাসন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের শক্তিশালীকরণ, দুর্নীতি অবসান এবং রাজনৈতিক আধিপত্যের পরিবর্তে জনগণের অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রর নির্মাণ।
অথচ অভ্যুত্থানের পর দুই বছর অতিক্রমের পরশেও নানা পরম সামনে এসেছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তির মধ্যে বিভাজন দৃশ্যমান হচ্ছে, শক্তিসংহ সংঘাত ও অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, জুলাইয়ের আন্দোলনের কৃতিত্বের নিয়ে পূর্বঘোষিত দাবি দেওয়া যাচ্ছে এবং আন্দোলনের ইতিহাস ও রূপনা নিয়েও ব্যত্যয় তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনা অনেকের মনে প্রশ্ন জাগিয়েছে—জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা কি বাস্তবায়নের পথে, নাকি তা ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়ছে?
যা রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐক্য জুলাইয়ের আন্দোলনকে শক্তিশালী করেছিল, ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সেই ঐক্যে ফাটল দেখা যাচ্ছে। এটি কোনো সাধারণ গণআন্দোলনের রূপাবর্তন নয়। আন্দোলনের চলাকালে একটা সাধারণ লক্ষ্য সম্মিলিত মত ও আদর্শের মানুষকে একত্রিত করতে পারে; কিন্তু পরিবর্তনের পর রাষ্ট্র পরিচালনা, সংস্কারের অগ্রাধিকার, নির্বাচন, বিচার, সংবিধান ও প্রশাসনিক কাঠামো নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ পেতে শুরু করে।
তাত্বিকভাবে সময়ে দলীয় শক্তিগুলোর উত্তেজনা, সংশয় ও প্রশাসনিক সংকট নিয়ে আলোচনা চলেছে। কেউ কেউ এগুলোকে পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া বলে মনে করেন, আবার অন্যেরা মনে করেন দীর্ঘদিনের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা, নেতৃত্বের সংকট ও রাজনৈতিক দূরদৃষ্টির ঘাটতির ফল হিসেবে এসব ঘটছে। যা-যাহাই কারণ হোক না কেন, একটা বিষয় স্পষ্ট—শক্তিসংহ দ্বারা আবার দলীয় পোলেন্দিক বন্দিতার কবলে পতিত হয়, তাহলে যে শক্তি বিপ্লব পরিবর্তনের কারিগর ছিল, তাদের আত্মস্ফুর্তি হ্রাস পেতে পারে। গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল ক্ষমতা সংস্কার; ফলে শক্তিসংহের গতিশীলতা রক্ষা রাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
বৃহৎ গণআন্দোলনের পর প্রায়ই দেখা যায়, বিভিন্ন গ্রুপ, সংগঠন ও রাজনৈতিক শক্তি আন্দোলনের নেতৃত্ব বা কৃতিত্বের দাবিদার হয়ে ওঠে। কিন্তু বাস্তবতা হলো—জুলাইয়ের আন্দোলন ছিল বহুমানুষের অংশগ্রহণের একটা সামাজিক আন্দোলন। যদি আন্দোলনের সাফল্যকে একটা নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র অর্জন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, তাহলে বৃহত্তর অংশগ্রহণকারীদের অবদান আড়ালে পড়ে যেতে পারে। এটি আন্দোলনের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে দুর্বল করার ঝুঁকি তৈরি হয় এবং নতুন বিভাজনের জন্ম দেয়।
যেকোনো ঐতিহাসিক ঘটনার মতো জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিভিন্ন ব্যাখ্যা ও রূপনা থাকতে পারে। কোনো সরকার বা রাজনৈতিক দল বা প্রশাসনিক অবস্থান নিয়ে সঠিক সুনির্দিষ্ট ইতিহাস রচনা সম্ভব নাও হতে পারে। তবে যদি তথ্যগত ভুল বা বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে পরস্পর সংশয় বা দুঃখপ্রকাশের প্রয়োজন হয়, তাহলে সত্যে জার্নাল বক্তব্যেরও সৃষ্টি করতে পারে।
ইতিহাস রক্ষার সবচেয়ে কবিরাজ উপায় হলো—স্বাধীন গবেষণা, নিরপেক্ষ তথ্যসংগ্রহ, পর্যায়ক্রমিক সাক্ষাৎ সংরক্ষণ এবং উন্মুক্ত অ্যাকাডেমিক আলোচনা। রাষ্ট্র বা রাজনৈতিক দল একতরফা ইতিহাস নির্ধারণ করলে বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: সংস্কার কি থমকে যাচ্ছে?
জুলাইয়ের আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি ছিল রাষ্ট্রীয় সংস্কার। ক্ষোভ বা সরকারের পরিবর্তনের চেয়েও বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের দাবি। যদি বিচার বিভাগ, নির্বাচন ব্যবস্থা, জনপ্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, দুর্নীতি দমন ব্যবস্থা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর কাঙ্ক্ষিত সংস্কার দীর্ঘসূত্রতার পড়ে যায়, তাহলে জনগণের মধ্যে পরোক্ষ হতাশা দেখা যাবে। তখন রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটলেও সংস্কারের মূল লক্ষ্য সুব্রত হবে না। জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা কার্যর্থি হতে চলেছে? এই প্রশ্নের সরল ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেওয়া কঠিন।
একদিকে বিভাজন, রাজনৈতিক পরিবর্তন, শক্তিসংহের অস্থিরতা এবং ইতিহাস নিয়ে বিরোধ উদ্বেগ সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে, রাষ্ট্রীয় সংস্কার, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গঠনের দাবি এখনও জনপরিসরে বলীয়ান এবং তা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা মুখ থুবড়ে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। যেমন সময়ে আশা হবে, তেমনি সংকটে শক্তি পুনঃএকত্র—এমন ভাবতি বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রকৃত মূল্যায়ন নুডির কেবল রাষ্ট্রীয় সংস্কারের অগ্রগতি, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালীকরণ, রাজনৈতিক সহনশীলতা, আইনের শাসন এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হওয়ার ওপরে।
ইতিহাস বহু গণআন্দোলন তাৎক্ষণিক পরিবর্তনের পর অভ্যন্তরীণ বিভাজন, ক্ষমতার পরিবর্তন গতি এবং সংস্কার বাস্তবায়নের জটিলতায় পড়েছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানও সেই পরীক্ষার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন। যদি ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিসমূহ ন্যূনতম সংস্কার-এজেন্ডায় ঐক্যবদ্ধ বজায় রাখতে পারে, শক্তিসংহর সহিংষতা থেকে মুক্ত রাখা যায়, ইতিহাসের রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটানোর বা নানাবিধ গবেষণা ও তথ্যচিত্র সংরক্ষণ করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে দায়িত্ব দৃশ্যমান অগ্রগতি ঘটে, তাহলে জুলাইয়ের জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তব রূপ লাভ করতে পারে। যদি বিভাজন, পারস্পরিক অবিশ্বাস, কৃতিত্বের প্রতিযোগিতা এবং সংস্কারের স্থবিরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জনগণের প্রত্যাশা ক্রমশ হতাশায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি থাকবে। ইতিহাসের বিচার করেনা। গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য কেবল ক্ষমতার পরিবর্তনে নয়, বরং স্বায়ত্বভুক্তি, জবাবদিহিমূলক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রবর্তনের মধ্যেই তার প্রকৃত মূল্যায়ন নিহিত।

*রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সমাজকর্মী

আরো