বুদ্ধিজীবীদের কথা

মুস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া,খাগড়াছড়ি।

দেশ,সমাজ বা রাষ্ট্র চালায় কে?এক কথায় এর উত্তর জ্ঞানীরা বা বুদ্ধিজীবীরা।
এখন প্রশ্ন জাগে,কে বুদ্ধিজীবী?সেই বুদ্ধিজীবী,যে সৎ উপার্জন করে,উপার্জনের একটি অংশ সত্য ও ন্যায়ের পিছনে ব্যয় করে, সত্যকে ইতিহাসের প্রেক্ষিতে বিবেচনা করে এবং সত্যের পক্ষে সাক্ষী দেয়,তিনি বুদ্ধিজীবী।
এখন প্রশ্ন জাগে,বুদ্ধিজীবীদের কাজ কি?আসলে বুদ্ধিজীবীতা নির্দিষ্ট কোন পেশা নয়;বুদ্ধিজীবিতা একটা সামাজিক দায়িত্ব।বুদ্ধিজীবীদের প্রধান কাজ হচ্ছে “ছল চাতুরি ইংরেজিতে যাকে বলে ডিসপেশন,তা থেকে সত্যকে আলাদা করা।সত্যকে ইতিহাসের আলোকে বিচার বিশ্লেষণ করে সত্যের পক্ষে সাক্ষী দেওয়াই হচ্ছে বুদ্ধিজীবীদের মূল কাজ।আমাদের সমাজে বুদ্ধিজীবী বলতে আমরা যাদেরকে চিনি বা বলি,বুদ্ধিজীবীর সংজ্ঞা সাথে মিলালে তারা কি আসলেই বুদ্ধিজীবী?যথার্থ উত্তর হবে”না”।আমাদের স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য কি ছিল?”যে আইন বা বিধি দ্বারা বিদেশি শাসকেরা আমাদের শাসন করে ছিলেন, সেই আইন ও বিধিকে আমরা পরিবর্তন করে,নিজেদের উপযোগী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই ছিল,স্বাধীনতা মূল উদ্দেশ্য।এখনো আমরা পরাধীনতার বেড়াজালে বন্দি।আমরা বিদেশি শাসক বদলিয়ে দেশীয় শাসকদের ক্ষমতায় বসিয়ে উপনিবেশিক আমলের শাসন কাঠামো দিয়ে দেশ পরিচালনা করা জনগণের জন্য এক ধরনের পরাধীনতা,যাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ”।বর্তমান বুদ্ধিজীবীরা কি “অভ্যন্তরীণ উপনিবেশবাদ” নিয়ে কি কথা বলেন?বলেন না।বর্তমান আমাদের সমাজে সত্যিকার বুদ্ধিজীবীদেরই অভাব।বর্তমানে আমাদের সমাজে আমাদের প্রথম ও প্রধান কাজ হচ্ছে,সত্যিকার বুদ্ধিজীবী সৃষ্টি করা।

একবার হযরত আলী (রা:) বলেছিলেন কখন বুঝবেন, একটি দেশ ও সমাজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে,”যখন দেখবেন মূর্খরা মঞ্চে বসে আছে আর জ্ঞানীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে।শাসকেরা মিথ্যা কথা বলে বেড়াচ্ছে।ধনীরা ধনী হচ্ছে এবং গরীবেরা আরো হচ্ছে”।গ্রীস দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন “জ্ঞানীরা শাসন করতে রাজি না হলে বা এগিয়ে না আসলে মূর্খের শাসনের দুর্ভোগ পোহাতেই হবে।” সিঙ্গাপুরের প্রাণ পুরুষ লিকুইন ইউ বলেছিলেন”আমাদের যোগ্যতম ও শ্রেষ্ঠদের রাজনীতিতে আনতে হবেই”।
“শিক্ষিতরা বিমুখ থাকে,
যদি মূর্খ করে শাসন;
কে আটকাবে এ সমাজ,
অনিবার্য পতন”।

আরো