জাতীয় পদক প্রাপ্ত গুণী ব্যক্তিদের সম্মান ও অসম্মান
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম
“অনন্ত অসীম প্রেমময় তুমি
বিচার দিনের স্বামী
যত গুণগান হে চিরমহান
তোমারি অন্তর্যামী!” (প্রার্থনা)
ইসলামী জাগরণের কবি গোলাম মোস্তফা (১৮৯৭ – ১৯৬৪) বাংলা সাহিত্যের একজন বিশিষ্ট কবি, সাহিত্যিক, অনুবাদক ও শিক্ষাবিদ।
বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যে ইসলামী ঐতিহ্য, মুসলিম ইতিহাস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ তুলে ধরে যে কয়জন সাহিত্যচর্চা করে বরণীয় ও স্মরণীয় হয়েছিলেন তাঁদের মধ্যে তিনি অন্যতম । সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি ‘কাব্য সুধাকর’ এবং ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধিতে ভূষিত হয়েছিলেন। তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘বনি আদম’, ‘সাহারা’, ‘হাসনাহেনা’, ‘কাব্য-কাহিনীবলি’ এবং কোরআন শরীফের কাব্যানুবাদ ‘কোরান-পাক’।
শৈশব থেকেই প্রিয় বাবার মুখে তাঁর রচিত ‘প্রার্থনা’ কবিতাটি শুনেছি অগণিত ও অজস্রবার! কবিতাটি প্রায় মুখস্থ বলা যায়। তাঁর প্রতি পাঠকদের অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালবাসার একমাত্র কারণ-তাঁর রচনায় ইসলামী ভাবধারার বহিঃপ্রকাশের কারণে। কবি গোলাম গোলাম মোস্তফা মূলত: ইসলাম প্রিয়তার জন্যই দুই বাংলার মুসলিম মানসে ব্যাপকভাবে সমাদৃত।
মুস্তফা মনোয়ার, তাঁর গুণী পুত্র- একাধারে চিত্রশিল্পী, ভাস্কর, পুতুল নির্মাতা ছিলেন। একুশে পদক বিজয়ী এই বিখ্যাত চিত্রশিল্পী বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) শিশু প্রতিভা বিকাশের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’-এর রূপকার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় জনপ্রিয় কার্টুন ‘মিনা’-র সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন এবং তার সৃষ্ট ‘পারুল’ পাপেট চরিত্রটি দারুণ জনপ্রিয়।
তিনি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের লাল সূর্যের নকশাকারীদের মধ্যে তিনি অন্যতম ছিলেন।
সম্প্রতি তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে
তাঁর শেষ বিদায়ের একটি দৃশ্য ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ইসলামি শরীয়্যার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে যেভাবে তাঁকে বিদায় জানানো হয়েছে তাতে আজ সুষ্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয়েছে যে ইসলামী জাগরণের কবি গোলাম মোস্তফা যিনি কাব্যে কুরআনের অনুবাদ করেছিলেন তাঁর পরিবারে আজ ইসলামের সর্বশেষ চিহ্নটিও অদৃশ্য। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়- ধর্মনিরপেক্ষ ও নাস্তিক্যবাদী অপশক্তির যৌথ সাংস্কৃতিক আগ্রাসনে একজন মুসলমানের শেষ বিদায় অনুষ্ঠানও ইসলামী বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রতিপালন করা হলো না। তিনি রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেলেন অথচ শেষ বিদায়ে ইসলামী রীতিনীতির বিপরীতে সংগীত পরিবেশন করে তাঁর রূহের প্রতি চরম অবহেলা প্রদর্শন করা হয়েছে। সেক্যুলার ব্যবস্থায় ইসলাম ও সংস্কৃতির বৈরিতা বহুলাংশে সুপ্রতিষ্ঠিত। অনেক বিখ্যাত ব্যক্তির পরিবার আজ খ্যাতি ও প্রাপ্তির কারণে ইসলাম থেকে অনেক দূরে। তবে ভাওয়াইয়া শিল্পী আব্বাস উদ্দীনের পরিবার অনেকটা ব্যতিক্রম। তাঁর দুই ছেলে- বিচারপতি মোস্তফা কামাল ও মোস্তফা জামান আব্বাসীর সাথে বিশেষ ঘনিষ্ঠতা ছিল। তাঁরা ইসলামী মূল্যবোধ ও আদর্শকে আমৃত্যু লালন করে গেছেন।
একটি ছোট্ট ঘটনা মনে পড়লো- মুস্তফা মনোয়ার ও
বিচারপতি মোস্তফা কামাল পরষ্পর বন্ধু ছিলেন। ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে বিচারপতি মোস্তফা কামালের মৃত্যু পরবর্তী দুআর মাহফিলে মুস্তাফা মনোয়ার উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও তাঁকে আমরা মাসজিদের অভ্যন্তরে নিতে পারিনি। মাসজিদের বাইরে একটি চেয়ার দেয়া হলে সেখানে তিনি চুপচাপ বসে ছিলেন। আমার মনে হয় তিনি নিজে যা বিশ্বাস করতেন তাঁর প্রতি তাই করা হয়েছে! তবে একজন মুসলমানের শেষ বিদায়ে শোকাবহ পরিবেশ ও ইসলামী ভাবগাম্ভীর্যের বিপরীতে সেক্যুলার নাস্তিক নারী-পুরুষদের এহেন কর্মকান্ডে সুস্পষ্টভাবে ইসলাম বিদ্বেষ ফুঁটে উঠেছে! রাষ্ট্র ও এর দায় এড়াতে পারেনা। সংস্কৃতি মন্ত্রী সেখান উপস্থিত ছিলেন। একজন রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত মহান ব্যক্তির শেষ বিদায় অনুষ্ঠান যেমন-জানাজা ও দাফন কার্যাবলী রাষ্ট্রের দায়িত্বে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্বাবধানে সম্পন্ন হলে এমন হবার সম্ভাবনা থাকতোনা। জাতীয় মাসজিদের সম্মানীত খতিব সাহেব আশা করি সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি তুলে ধরবেন
আল্লাহ্ ক্ষমাশীল ও দয়ালু!